Skip to main content

Posts

Showing posts from 2019

মহালয়া - গৌরী দাশগুপ্ত

মহালয়া ~~~~ শরতের এই শিউলি ঝরা প্রাতে মনে যে আজ খুশির জাগরণ , পিতৃপক্ষ র শেষে, দেবীপক্ষের হয় যে আগমন। গঙ্গা বক্ষে  পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে করি যে তর্পণ।   আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হলো আগমনীর গান-  'বাজলো  তোমার আলোর বেণু,  মাতল যে  ভুবন"    উৎসবের এই আনন্দেতে সবারে কর আহ্বান, হিংসা দ্বেষ ভুলে, গাও যে সবে মিলন তিথির গান।  

আগমণী - বাপ্পাদিত্য পাল

শরৎ চেনায় ঘর কুনো মেঘ নাচের  তালে  কাশের ফুল, শিউলিগুলো আতর ছড়ায় সাজতে ব্যস্ত ঢাকের বোল। সময়ের ঘাটে নোঙর বেঁধে মাঝি - মাল্লার ফেরার গান, অনুভূতির ওই আঙ্গুল ছুঁয়ে ইচ্ছেডানায়  মেলাক  প্রাণ । সাজছে শহর  নতুন সাজে মাতছে আলোয় অলি-গলি, অল্পনারা তাই  কইছে কথা শঙ্খধ্বনি ওই চেনায় কলি। প্রহর গোনে অপেক্ষা আজ জমে মনের  কোণে খুনসুটি, দামাল - বুড়ো  সবাই  মাতে ভুরিভোজ পর্ব  জমজমাটি।

Front page | Shiulibela Magazine | 2019 Pujo Sankhya

Designed by - Vivek Bir সকলের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা নিয়ে প্রকাশিত হলো মৃত্তিকা পরিবারের তৃতীয় ওয়েব ম্যাগাজিন " শিউলি বেলা " । সম্পূর্ণ ম্যাগাজিন টি পড়তে বা দেখতে ক্লিক করুন হোম সুইচ টি তে । এবং যে পেজ টি পড়বেন/ দেখবেন ক্লিক করুন রিড মোর বাটন টি তে । ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন বন্ধুদের সাথে * বি.দ্র : এই ম্যাগাজিন এর প্রত্যেকটি পোস্ট এর কপিরাইট লেখক/ফোটোগ্রাফার/চিত্রশিল্পী দের নামে এবং মৃত্তিকা পরিবারে ২০১৯ কপিরাইট আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত । বিনা অনুমতিতে কোনো লেখা/অঙ্কন বা ফোটোগ্রাফি ব্যবহার নিষিদ্ধ ।          ধন্যবাদান্তে - মৃত্তিকা পরিবার ।

সম্পাদকীয় কলমে - মৌলী বণিক

''আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা নতুন ধানের মঞ্জরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি বরণডালা।'' -------------প্রিয় পাঠক, বাংলার ল্যান্ডস্কেপ ফ্রেমের ভিতর ধীরে ধীরে অদৃশ্য এক শৈল্পিক হাতের পরশে ফুটে উঠছে একটি নির্মল সুনীল আকাশ, ধূসর শুভ্র কাশফুলের সমারোহ, ঘাসের উপর ছড়ানো শিউলির আল্পনা, রৌদ্রোজ্জ্বল স্নাত পৃথিবী, ভোরের বাতাসে হিমেল পরশ আর পাতার ডগায় দোদুল দুল হীরককুচি - সব মিলে ধীরে ধীরে মূর্ত হচ্ছে নস্টালজিক বাঙালি প্রাণের চিরচেনা অথচ চিরনতুন এক অদ্ভুদ চিত্র, যেখানে সহস্রাব্দ অতিক্রমণ শেষেও লেগে থাকে সেই একই মোহ, একই মুগ্ধতা, একই আবেশ, একই উল্লাস, একই উন্মাদনা।বাংলা মায়ের শ্যামল অঞ্চল জুড়ে তখন শুধু একটাই সুর ''আহারে কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। '' এই আনন্দোজ্জ্বল আবহেই মা মহামায়ার আগমন বার্তায় দিগ্বিদিক অনুরণিত হয় - মধ্যবিত্ত আপামর বাঙালী মন তাদের মধ্যবিত্ত আবেগে আর কল্পনায় আপ্লুত তখন - বছর ঘুরে মর্ত্যে আসবেন মা উমা পতিগৃহ থেকে।বাড়ি থেকে বারোয়ারি উৎসব মুখরতার উত্তাল ঢেউ, আপামর বাঙালী আনন্দে মাতোয়ারা ।যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তখন 'সাজো সাজো' রব চারিদি...

বদলে যাওয়া মানসিকতা - কলমে নন্দিতা দাস

আনন্দ নগর পাড়ায় এবার দুর্গা পুজো 50 বছরে পা দিলো । সলিল দাসগুপ্ত বাবু এই পূজোর মাননীয় সভাপতি । তার সাথে এইবার প্রথম পুজো সলিল বাবুর একমাত্র ছেলের বউ এর । সলিল বাবুর আনন্দ এবার দ্বিগুন । হ্যাঁ সলিল বাবুর একমাত্র ছেলে সঞ্জয় । বিয়ে হয়েছে এই তিন মাস হলো । ছেলে , বৌমা , স্ত্রী কে নিয়ে এইবার ভালোই পুজো কাটাবার জল্পনা কল্পনা করছে । রীতি মতো পুজো শুরু হলো । ষষ্টি, সপ্তমী পেরিয়ে এলো অষ্টমী র সকাল । সলিল বাবু সকাল সকাল সব কাজ সেরে   পাড়ার পেন্ডেল এ চলে গেছেন সব কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কিনা তা দেখতে । যাওয়ার আগে তার স্ত্রী কে বলে গেলেন খোকা আর বৌমা কে নিয়ে যেন সময় মতো পৌছে যায় । সুচিত্রা (সলিল বাবু র স্ত্রী) তৈরি হয়ে তার বৌমা কে ডেকে বললেন ... "বৌমা ... তুমি তৈরি হয়েছো? "পারমিতা " ( সলিল বাবুর বৌমা ) বেরিয়ে বললো - মা আমি যেতে পারবো না । শাশুড়ি --(অবাক হয়ে বলল) কি হলো শরীর খারাপ নাকি ডক্টর ডাকবো ? বৌমা -- না মা আসলে আমার পিরিয়ড হয়েছে তাই যেতে পারবো না । শাশুড়ি ( হেঁসে বললো )-- পাগলী মেয়ে কথা শোনো । ওরে এখন দিন পাল্টেছে ,যুগ পাল্টেছে এখনও ওসব ভুল ধারণা মাথায় নিয়ে বসে থাকিস না । ...

Photography page 04

Image - Arghya Mukherjee, Founder, Director Mrittikaparibar and Kalpography Image - Rajdeep Das, from Kalpography, Photography and Drawing Dept. Of Mrittikaparibar Image - Amit Nandi , from Kalpography Photography and Drawing Dept. Of mrittikaparibar

Photography , page 03

Image - Debmalya Chowdhury, from - Kalpography Photography and Drawing Dept of Mrittikaparibar Image - Pratima Sahoo , Hon'ble member of Managing Dept. Photography and Drawing Department of Mrittikaparibar  Image - Joy Karmakar , from Kalpography

Drawing , page 1

Sunita Mukherjee , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Madhumonti Paul , from Kalpography Phtotography and Drawing Department of Mrittikaparibar Drawing - Ruhul Amin , From Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Adarsha Mondal , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Tanmay Sinha , From Kalpography , Photograpy and Drawing Dept. of Mrittikaparibar drawing - Ankita Maji, from - Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar )

Photography page 02

image and retouch - Abhilin Kundu , from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) image and retouch - Ashim Podder , from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) image - Sudipta Chatterjee from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) Image and retouch - Sanjib Routh , From Kalpography ( Photography and Drawing Dept, of Mrittikaparibar ) image - Subhodeep Pal , from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) Image and retouch - Kutubuddin Molla , from Kalpography ( Phtotgraphy and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) image and retouch - Supratim Chakraborty

photography , page 01

Apurba dey , from Kalpography Photography and Drawing Department of Mrittikaparibar image - Aitreel basu image and retouch - Arijit Das image - Tridib Banerjee image - Prince Gayen image - Anindita Mishra , from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) image - Sourav Mukherjee , from Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar ) 

শুভারম্ভ - বিবেক বীর

দুর্গাপুজো, বাঙালির একটি আত্মপ্রকাশ বলাবাহুল্য। অপার আনন্দে মেতে ওঠে প্রতিটি বাঙালি মন- এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই, নানান আঙ্গিকে সেজে ওঠে বাঙালির মন তথা সাধের ঘরবাড়িগুলি। তবে আজ এই প্রবন্ধে আমি তাদের কথা বলতে চাই যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সারাবছর। হ্যাঁ সেইসমস্ত প্রবাদপ্রতিম শিল্পীসত্তাকে এবং সেইসব মানুষদের, যাদের গল্প দামী প্রসাধনীতে মোড়া নয় বরং যারা আজীবন শক্ত দেহের ঘাম ঝরিয়ে আজও স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে চলেছেন সুদূর ভবিষ্যতের হাতছানিতে৷ মুখর সব কলতানে বাঙালির ঘরে ঘরে সাজানো মঙ্গলঘট, নতুন আবেশে মা'এর আগমনী সুর তোলে বিশুদ্ধ কাশফুল, শরতের নিবিড় আলিঙ্গনে আপ্লুত হয় এই ভূমির সমগ্র উপত্যকা৷ আত্মীয় পরিজন মিলে মিশে একাকার হয় দুর্গাপুজোর মহামিলন উৎসবে। বাতাসে খুশির কলরব- বাজলো তোমার আলোর বেণু'। তবে আজ একটু অন্য গল্প বলি, সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে রাত্রিবেলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত নানাবিধ বৈচিত্র‍্য আমাদের গোচরে আসে৷ কত ছবি চলচ্চিত্রের মতো ভেসে বেড়ায় এই ব্যস্ত চরাচরে৷ কেউ ফিরে দেখেনা, কেউ ভুল করে জিজ্ঞেসও করেনা, কারণ- আজ সময় কারো হাতে নেই৷ তবে ...

দূর্গা পূজার আনন্দ - ডাঃ সঞ্জয় কুমার মল্লিক

বর্ষার ঝিমঝিম বৃষ্টি থেমে গেছে।গায়ে এসে লাগছে হিমেল হওয়া।উঠনের শিউলি ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা বাতাস।অন্ধ,বৃদ্ধ মানিকবাবু গিন্নিকে বলে,দূর্গা পূজার আর কতদিন বাকী জানো?        -হ্যাঁ,আর কয়েকটা দিন বাকী আছে।তোমার তাতে কি?তুমিতো কোথাও যেতে পারবে না।       - সে অবশ্য তুমি ঠিকই বলছ,তবু পূজাতো।দূর্গা পূজা এলেই সবার মতো আমারও মন আনন্দে ভরে ওঠে,মাইকে শুনতে পাই ঢাকের শব্দ,মন্ত্র উচ্চারণ।আমিও অনুভব করতে পারি দূর্গা পূজা হচ্ছে।ওই চারদিন নিয়ম করে পাড়ার ছেলের দল নানান খাবার পৌঁছে দিয়ে যায়।এই চারটে দিনের অপেক্ষায় কেটে যায় সারাবছর।এমনিতে বছরের অন্যান্য সময় খুব একটা খাওয়াতো আর হয়ে ওঠে না।তাই পূজার কটা দিন খুব মজা হয়।        গিন্নি এসব কথা শুনে চুপ করে যায়,        কিছুক্ষণের নীরবতা ভেঙে গিন্নি বলে,আচ্ছা তোমার খুব কষ্ট হয় বল ?       -সেতো হয়,তবে নিরুপায় হয়ে সহ্য করতে করতে এ এক রকম গা সোয়া হয়ে গেছে, চোখের শেষ দেখা এ পৃথিবী,মানুষ সবই থমকে গেছে, সময় পেরিয়ে যায়,কিন্তু পরিবর্তন কিছু বুঝতে পারি না।থাক এও এক ভালো থাকা ! ...

দুগ্গা ভাসান - মৌলী বণিক

ফুলুপিসির কি যে হল, কেউ বলতে পারেনা; এমন আশ্চয্যিকথা কে কবে শুনেছে! দিব্যি ভালো মানুষ, হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই, ঠোঙা বানাতে বসে একেবারে পরপারে পাড়ি দিলে ! হসপিটালের ডাক্তার ভালো করে দেখে ডেথ্ সার্টিফিকেটে লিখলেন ''সাডেন ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।'' বিজনপুর রেলস্টেশনের পেছনের বস্তিতে ফুলুপিসির বাস । নবু'র ঠোঙা বানানোর দোকানে পিসি কাজ করে সে আজ বহুযুগ হল । দিব্যি হাতের কাজ- নিখুঁত সুন্দর; পাহাড় প্রমাণ কাগজ কেটে আঠা সেঁটে পিসি শয়ে শয়ে ঠোঙা বানাচ্ছে রাতদিন। হাসিমুখে কথা বেশী নেই- শুধু চোখ আর হাত চলে একনাগাড়ে।অর্ডার মত পিসির কাজ সময়ের আগেই ডেলিভারির জন্য রেডি - নবু আদর করে পিসিকে ডাকে দশভূজা পিসি। মেয়ে দুগ্গা ছাড়া সংসারে পিসির কেউই প্রায় নেই। সেই দুগ্গাকে কখনো কাছছাড়া করার ইচ্ছে ছিল না পিসির। মা মেয়ের সংসার - যাহয় টানাটানি করে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু ঘোষাল গিন্নি এসে মাস দুই আগে একেবারে নাছোড়বান্দা হয়ে ঝুলে পড়ল '' ও ফুলু, দে না তোর দুগ্গাকে লক্ষ্মীমা আমার। তুই তো জানিস, আমার ছোটমেয়েটার বে' হয়েছে কোলকেতায় ; মেয়ে আমার পোয়াতি। মস্তঘরের গিন্নি সে, মাথায় হাজার কা...

পড়ো এবং অন্যকে পড়াও কলমে পদ্মাবতী মন্ডল

তেরো পেড়িয়ে চোদ্দতেই ঋতুমতী হয়েছে কমলা, ওর কাপড়ে রক্তের দাগ দেখেই রে রে করে তেড়ে উঠলো ওর দিদি ঠাকরূণ, দিদি ঠাকরূণ মানে হচ্ছে কমলার ঠাকুমায়ের শ্বাশুড়ী মা, বয়স পঁচাশি ছুঁয়ে গেছে এখনো গলার বাজখানি শুনলে বাড়ীর আমড়া গাছটোতে কাকচিল বসে না, আঁটোসাঁটো আটপৌরে শাড়ী পরে বাড়ীর চারদিকে গাছপালা নোংরা আগাছা সাফসোতরন করেন, এমনিতে ভালো মানুষ তবে মেয়েদের প্রতি একটু হিংসুটে, সেটা স্বভাবজাত, কেজানে কেন বাড়ীর মেয়েদের প্রতি এত তিক্ততা ওনার, কোনো কিছুই নরম গলায় বলেন না, সবটা যেন মারমার কাট কাট-- "বলি ওও মুখপুড়ি... ইদিকে আয় দেহিনি !!! হায় হায় হায় এই আধ-দামড়া বিটিছ্যালাডারে আহোনো বাপের বাড়ী থুয়ে দিসে!!! খুঁটি পুজবে ভাবছে লেকি?? তুকে কী গোঁজে বুড়ুবে?? তুর মতন বয়সে আমার তিনটে ছেলেমেয়ে হয়েগেছুলো, আর তুই কিনা এই ভরা লদী লিয়ে বাপের ঘরে পড়ে আচিস?? ওরা নাহয়ত ব্যাটা ছেলে তাই বলে তুর মা'ও দেখেলাই!! শাড়ীটো সাপটে গেয়েছে রক্ত তে, ছ্যা ছ্যা ইমন মেয়েছেলে মা তুমি!! একটু সন্তপ্প নাই মা " কমলা থতমত খেয়ে গেল, প্রথম বার ঋতুমতী হয়েছে তাই নিয়ম কানুন অত জানা নেই তাই মায়ের ঘর...

অসুর বধ - রানা চ্যাটার্জী

ওগো তুমি একবার রায় কত্তার পা ধরে অনুরোধ করো, অন্তত পুজোয় যদি মেয়েটাকে পাঠায়। গিন্নি ওদের অপমান ভুলে গেলে! শক্ত হও,ওরা পিশাচ।পুজোয় সব মেয়ে বাপের বাড়ি এলেও সে কপাল ফুলকি করেনি,ওর নিস্তার নেই। তিন বছর আগে রায়কত্তার ছোট ছেলে অঞ্জন, বখাটে বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলার জঙ্গলে ঘাপটি মেরে ,ফুলকির পড়ে ফেরার পথে পাশবিক অত্যাচার চালায়।  অমন লক্ষী গড়ন,সুন্দরী  ফুলকির বিপদ সবাই টের পায়, দুই গ্রামবাসী অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করলে। স্পটে অঞ্জনের ছবি যুক্ত মানি ব্যাগও খুঁজে পায়। ক্ষমতার দাপটে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু ফুলকির বেঁচে যাওয়া,প্রমান ,উত্তেজনা সামাল দিতে,রায়কত্তা ছেলের সাথে ফুলকির বিয়ে দেন। কিন্তু শুরু হয় ফুলকির বন্দিজীবন,শারীরিক, মানসিক অত্যাচার যা, ঝি চাকরদের মুখে প্রকাশ পেত।  গতবছর পুজোয় ফুলকিকে আনতে গেলে  ঘাড় ধাক্কা জোটে।চৌধুরীদের দালানে মৃৎশিল্পী , প্রতিমাকে জীবন্ত রূপ দিচ্ছেন,ততো  সবিতার মন হু হু করছে ফুলকির জন্য। নবমীর সন্ধিপূজা শেষ ,আরএকটা দিন। কিন্তু সবিতার প্রতীক্ষার অবসান যে কবে! অক্টোবরের শেষ, বাতাসে হিমেল হাওয়া ,পুব আকাশে আলো...

শিউলি ফুল - মেঘমিতা

ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই মাহিয়ার নাকে ভেসে আসে মিষ্টি একটা গন্ধ। গত তিনদিন টানা বৃষ্টির পর কাল রাত্রে বৃষ্টি থেমেছে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখে মেঘ একদম পরিষ্কার। ব্যালকনিতে যেতেই চোখে পড়ে শিউলি গাছের তলায় কি যেন চাদর বিছিয়ে গেছে। এক ছুটে চলে গেল শিউলি গাছের কাছে। চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ নিল শিউলি ফুলের। এই শরতের প্রথম শিউলি ফুটেছে ওর হাতের লাগানো গাছটায়। গাছটাকে ও নিজের ছেলের মতো আগলে রেখেছে। শুয়োপোকা হতো বলে কতবার যে গাছটা কেটে ফেলার কথা বলা হয়েছে তাও ঠিক মনে নেই। তিনদিন পর রোদ উঠেছে, ঘাসের ডগা গুলো চকচক করছে। ওগুলো বৃষ্টির ফোঁটা নাকি শিশিরকণা মাহিয়া ঠিক জানে না। ঠিক যেমনভাবে আজও মাহিয়া জানেনা এমনই এক শরতের সকালে তার মা-বাবা কোথায় হারিয়ে গেছে। সে আজ প্রায় 12 বছর আগের কথা, ঘুম ভেঙে মাকে দেখতে না পেয়ে সারা বাড়ি মাথায় তুলেছিলো মাহিয়া খুঁজতে বেরোল তার বাবা। একটু বেলার দিকে মাহিয়ার বাবা ফিরল সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে কিন্তু আর কোনদিনও ফিরল না মাহিয়ার মা। মাহিয়ার চোখে করা দুটো চকচক করে ওঠে ঘাসের দলগুলোর মতোই ! এমন সময় মাহিয়ার আঁচলে টান পড়ে - " মা, মা তুমি এখানে কি করছ?" ...

শারদীয়া - কৌশিক চৌধুরী

শরৎের আকাশে মেঘেদের খেলা জানান দিচ্ছে মায়ের আগমনী। শিউলি ফুলের গন্ধে এখন রোজ সকালে চোখ খুলি। কুমোর পাড়ায় ব্যস্ত কুমোর মা সাজছে আজ। মায়ের ওই হাসি মুখ দেখে মনভরে যায় ওই হাসিতে সব কষ্টের বিদায়। কাশবনে তে কাশ ফুল, পুকুরে ফুটেছে পদ্ম আজ যেদিকে তাকাই দেখি শুধুই আনন্দ। সপ্তমীর দিনে মন্ডপে দলে দলে ভিড়, অষ্টমীতে লাল শাড়ি আর পাঞ্জাবি তে ফিট। নবমীর সন্ধিপূজা মন ভরে যায় দশমীতে মন খারাপ মায়ের বিদায়। ঢাকের কাঠিতে বিষন্নতা এবার মায়ের বিদায় পালা, মন ভার তাও চারিপাশে চলছে সিঁদুর খেলা। আবার একটা বছর পরে দেখা হবে মা তোমার সাথে, সংসার নিয়ে তাড়াতাড়ি মা, ফিরে এসো আমাদের কাছে। 

জগত্ররহিতৈষিণী - কলমে সম্রাট পাল

সর্বশক্তি "যোগাসনা", "হিরণ্যবর্ণা"দেবী"পার্বতী", আদিভূতা সনাতনী, "দশভূজা"তেজরাশি। গিরিরাজ-মেনকা তনয়া, "ত্রিগুণা" মাতা "গিরিশা", নির্বিকরা দুর্জ্ঞেয়া, মাতৃকাশক্তি "ভূবনেশ্বরী" "শিবপ্রিয়া"। "অসূরনাশিনী" ভয়ংকরী, "ঊর্ধ্বকেশী"তুমি "মধুকৈটভসংহন্ত্রী", পাপী-তাপিদের মুক্তি ঘটাও"মহাকালী" ত্রিলোকব্যাপী।

বিসর্জন - আশিষ মেটে

ক্ষত বিক্ষত পাহাড় মাকড়সা জালে ঢাকা, রক্তস্রোত নদী, মৃত অরণ্যের চিত্র লেখা । শরৎ মেঘে নকশা ছবি, ভাসে ছোট্ট মেয়ের মুখ; বারুদে গন্ধে দম বন্ধ, ফেটে যাচ্ছে বুক; জ্বলন্ত শরীরের চলন্ত গুলির আওয়াজ, থমকে দাঁড়ায় কান্না তাঁর থামে না; ক্ষমা করিস মা, নিয়ে যেতে পারলাম না তোর পূজার সাজ- ছোট্ট মেয়েটি বার বার জিজ্ঞাসা, বাবা কবে আসবে মা? পুষ্পাঞ্জলি শেষ, চোখের জলে দুর্গামা; দিনের প্রতিটা মুহূর্তে আতঙ্ক; যোগ মেলে না জীবনের শেষ পৃষ্ঠার অঙ্ক । বিসর্জন বেদনার গান হৃদয়ের বাজে; ভারতমাতার দীপ  জ্বালিয়ে ঘরে ফিরলো তেরঙা সাজে।।

মায়ের আগমনী বার্তা - শিপ্রা কর্মকার

শরণময়ী মা দুর্গা, তুমি আসবে বলে----- নীল গগনে ভেসে যায় রূপলী মেঘ রাশি রাশি গগনে মেঘে দেখি মা অবয়ব তোমার মুখের হাসি। দেখি শরৎমেঘ বাদলবাতাসে খেলে লুকোচুরি হয়েছে নীপশাখে শাখে নানা ফুলের সঞ্চারী সবুজ ক্ষেতে হাওয়ায় দোলে নানা শস্য ধানের মঞ্জরী । আনন্দে কাশফুলের হাওয়ায় নাচন দুলেদুলে দিঘির জলে শত কমল ফোটে দলেদলে। তুমি আসবে বলে---- ঢাকের তালে বাজে আগমনীর সুর অমৃত বাতাসে ভাসে শিউলির সৌরভ মধুর আকাশে শরতআলো মিলিয়ে দেয় মেঘকালো তৃণতলে শিশিরে ভেজে মা তোমার চরণতল ভুবনের প্রতি ভবনের আঙিনায় আল্পনার বাহার এ আনন্দ উৎসব আয়োজন মাগো হয় যেন সবার তুমি আসবে বলে---- ফুল চন্দন শঙ্খধ্বনি মঙ্গল ঘটে নানা নিবেদনে সুন্দর সম্ভার শরণময়ী মা মঙ্গল আরতিতে ঘুচাও মোদের তিমির অন্ধকার ।                          ----------------------

আগমনী বার্তা - সৌমী রাহা আখুলি

শরৎ এসেছে ঘরে ঘরে, আগমনী সুর সাথে করে। কোন কাজে আজ লাগেনা মন-  ঢাক বাদ্যি বাজছে শোন। মা এসেছেন দ্বারে আজ,  সাঙ্গ কর সব কাজ। মায়ের মূর্তি হৃদয় মাঝে-  ধরনী সেজেছে নব সাজে। ঢাকের উপর পড়বে কাঠি,  পুজো মণ্ডপ জমজমাটি।  আবালবৃদ্ধের মুখের হাসি- আনন্দ স্রোতে সবাই ভাসি।

শরতের প্রকৃতি - আনজারুল মোল্লা

শরৎরানী রূপের ছটায় হাসছে যেন এই শরতের নীল আকাশ, উদাস হয়ে শুভ্রা কাশে পাখনা মেলে বইছে যেন শীতল বাতাস। শরৎ এলো এই ধরাতে হিমের পরশ ছড়িয়ে দিয়ে গেলো সকাল বেলায় ঘাসের আগায় যেন চোখটি তার মেলো। শরতের ওই কাশের বনে মেলল শুধু নীল আকাশের ডানা এক পশলা বৃষ্টি দিয়ে গেল শরৎ করল না যে মানা।

খুশির ঝলক - রতন বসাক

জমির আলে কাশ ফুলের ঐ হাওয়ার দোলা চলে, আকাশ ভরা মেঘের ভেলা অনেক কিছু বলে । শিউলি গাছের ফুলগুলো সব মাটির উপর পড়ে, সারাটাদিন তার কারণে গন্ধ থাকে ঘরে । সবাই বলে আসছে পূজো আর ক'টাদিন পরে, খুশিতে এখন আমার মন কেমন যেন করে !

আমাদের দূর্গা - অমল ভট্টাচার্য্য

স্বর্গের দুর্গা, আমাদের কল্পনা, মর্ত্যের দুর্গা, বাস্তব ঘটনা। স্বর্গের দুর্গা, আগমনে আনন্দে আটখানা, মর্ত্যের দুর্গা, আগমনে সাংসারিক যন্ত্রণা। স্বর্গের দুর্গা, দশভুজে সজ্জিত অস্ত্রে মারছে অসুর, মর্ত্যের দুর্গা, সমাজ যন্ত্রণায় মরতে করেনা কসুর। স্বর্গের দুর্গা, শেখেনি কিছুই খেতে, মর্ত্যের দুর্গা, নেই খাবার পাতে। স্বর্গের দুর্গা, বিপত্তারিণী জগজ্জননী, মর্ত্যের দুর্গা, ক্ষুধার্ত ধর্ষিতা রমণী। স্বর্গের দুর্গা, আগমনে কাশফুল নাচে, মর্ত্যের দুর্গা, আগমনে ঊলুধ্বনি বাজুক আমাদের সভ্য সমাজের আনাচে কানাচে।

এসো চিন্ময়ী মা - মৌলী বণিক

অশ্রুরঙের ছবি দেখি কেন মা দুর্গা তোর চোখে? সব রঙ হারিয়ে তুই ডুবেছিস কি হতাশ শোকে? সভ্য পৃথিবী কক্ষগতি বদলে ছুটছে আদিম অন্ধকারে- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধর্ষিত গুহামানবের হিংস্র হুহুঙ্কারে। ধিকিধিকি রোষানলে জ্বলছে দেখি পাপভারে ন্যুব্জ ধরা, তবু ধম্মনেতাদের রক্তচক্ষু ভয়ে ধম্মজুজুরা আধমরা। নারীর শালীনতা ঘোমটা বোরখা কিছুই আজ রক্ষিত নয়; মহিষাসুররা রক্তবীজের বংশ- ধর্ষণ, হত্যায় লেখে পরিচয়। অনাচার ভ্রষ্টাচারের ধারা বিবরণী জমে ধূসর হয় পান্ডুলিপি অসহায় হতাশায় দলাদলি মারামারি- নাম দেই বিধিলিপি। কাদা ছোঁড়াছুড়ি, মিথ্যের চমক জাদুগরী, কথার ফুলঝুরি তাতে আর কিছু না হলেও হয় নেতার বৈভব ও রাজপুরী। ভক্তের মুখোশ পরা এসেছে যারা মৃন্ময়ী রূপে প্রণাম করে, রাতের আঁধার ঘরে সেই চিন্ময়ীরূপকে ক্রূশবিদ্ধ করে । দূর্গতিনাশিনী তোর বিলাসী দশভুজা সংহারী রূপ চাইনা মাগো, মন্দির বাইরে এই সমাজে দ্বিভুজা চিন্ময়ী রূপে মা তুমি জাগো।

শরতের শোভা - মান্তু রায়

আকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মেঘের ভেলা, মাঠে মাঠে হেলেদুলে, কাশ ফুলের মেলা শিউলী ফুল, উঠোনে পরে থাকার সকাল বেলা... নদীর শীতল জলরাশি, খামখেয়ালির পথ ধরে  বয়ে চলে... ঘাসে ঘাসে শিশিরের বিন্দু...  নীল আকাশের নীলিমায়, হারিয়ে যেতে মন চায় প্রকৃতি আর আকাশ, চুপিচুপি যেন কথা কয়... ভোরের সূর্য কিরণ, উঁকি দেয় সবুজ ধানের শীষে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে, ছুটির আমেজে ছোটাছুটি চারিপাশে...   সূর্য রক্তিম হয়ে, প্রকৃতির এ রুপে যেন হাসে...    দোয়েল পাখির দল উড়ে বেড়ায় মনের সুখে, রামধনু রঙ দেখা যায় আকাশের বুকে....!!!

আগমণী - সারদামণি মণ্ডল

পূজো এলেই চারিদিকে সাজো সাজো রব মনের মাঝেও কারা যেন করছে কলরব। চারিধারে কাশ ফুল আর শিউলি ফুলের মেলা নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসার খেলা। কুমোর মশাই আটচালাতে মায়ের মূর্তি গড়ে নামতা বলায় মন নেই আর পাঠশালার ওই ঘরে। ঘর দোর সব ঝেড়ে মুছে করছে পরিষ্কার বছর পরে আসবে উমা নিয়ে পরিবার। নতুন পোশাক কেনাকাটা চলছে ফাঁকে ফাঁকে নাড়ু মুড়কিও হচ্ছে তৈরী বরণ করবে মা'কে। ঢাকের কাঠিতে যাচ্ছে শোনা আগমণীর গান মুখ ভার করে থেকোনা আর ঝেড়ে ফ্যালো অভিমান। 

মহা আলেয়া - দলছুট পাখি ( চম্পা সর্দার )

সকাল থেকে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। আজ মহালয়া- সরো, লক্ষ্মী, কেতো, গণা মায়ের পাশে শুয়েই দূর থেকে ভেসে আসা বীরেন্দ্র কৃষ্ণের মহালয়া শুনেছে। ওদের মনে এক আনন্দের রেশ। পুজোর প্যান্ডেলগুলো প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দোকানগুলোতে কত ভিড়! কত রঙিন রঙিন সুন্দর জামাকাপড়! মা বলেছে এবার একটু আলাদা রকমের পুজো কাটাবে ওরা। সেই আনন্দেই চার ভাইবোন আহ্লাদে আটখানা। বাবার উপর অবশ্য ওদের খুব একটা ভরসা নেই। বাবা তো যেখানে সেখানে নেশা করে পড়ে থাকে। চারজনে গোল হয়ে বসে অপেক্ষা করছে মায়ের হাতের রান্না খাবার জন্য। বৃষ্টির জন্যই আজ একটু দেরি হয়ে গেল রান্নাটা শেষ হতে। গরম গরম পাঁচমিশেলী সব্জির ঝোল আর খুদের ভাত। ছোট ছোট কচি হাতগুলো গোগ্রাসে গিলতে থাকে সেই মহা প্রসাদ একটা তোবড়ানো গামলা থেকে। তিনটে আধলা ইটের তৈরি নিভন্ত উনুনটায় তখনও কিছুটা কুড়ানো কাগজ আর কাঠের আগুন। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া ছেঁড়া বিছানাগুলো সেই তাপে শুকোতে ব্যস্ত উমা, ওদের মা। - মা, তুমিও একটু খাও। দেখো কি ভালো হয়েছে তরকারিটা আজ। - আমার পেটে ব্যথা করছে এখন। তোরা খেয়ে খেলা কর। - বিকেলে আজ নতুন জামা দেবে বলেছিলে, সত্যি দেবে তো? জিজ্ঞাসা করে সরো। - বিক...

ইতিহাস কি সত্যি কথা লেখে ? - সোমেশ বন্দ্যোপাধ্যায়

অষ্টাদশী নয় ও, তবে ষোড়শী হবে হয়তো? / হয়তো!না না,পঞ্চম শ্রেণীতেই ছিল তখন সে।/ সে কোনও এক গ্রীষ্মের মধ্য দুপুরে, / দুপুর – এক উত্তপ্ত দুপুরে সব ওলটপালট হয়ে গেল তার ---/ তার কুমারী-কলি-বুকে যখন পেতে চেয়েছিল মধু/ মধুপ ভ্রমর নয়,গুবরে পোকারা  / গুবরে পোকা বিষাক্ত হয়তো নয়, তবুও ./.. তবুও তার অবিবেকী কর্মে জীবন এক থমকে গেল। / থমকে গেল একটা জীবন; নদীর বুকে বাঁধ নয়,/ বাঁধ হলে নদী তো অনেক কাজে লাগে, এ যে ছন্দপতন,/ ছন্দপতনও নয়, নদী হারালো তার পথ মরুভূমিতে।/ মরুভূমিতে পথ হারানো নদী ভূগোল থেকে হলো ইতিহাস।/ ইতিহাস কি লিখবে সত্যি কথা ... সে তখন পঞ্চমশ্রেণীতে,/ পঞ্চমশ্রেণীর একাদশী, ষোড়শীও নয়,নয় অষ্টাদশী।/

দুগ্গা মা - রাণা চ্যাটার্জী

দেখ্ মা আইছে দুগ্গা ঠাকুর,পরব পরব গন্ধ, কত্ত  মজা চাইরধারে,আমার কপাল মন্দ! বাবুদিগের  ছুটো ব্যাটা,লতুন জামা পইরে, লম্বা চুলে,কানের দুলে ফরফরাইছে ঘুইরে। ছিঁইড়ে গেইচ্যা  জামাটা,বল্ কি পইরব ইবার, আমার তো মন করে বল,লতুন জামা লিবার! চাই মা একটো লতুন জামা ,দে মা ইবার  কিনে, পারবি লাই তো বুকে জড়ায়ে,বলেছিলিস কেইনে? অ্যা মা, তোর চোখে জল! কাঁদিস কিসের লাইগে? চাইনা জামা,তোর শাড়িটাই,জুগাড় কইরব আইগে শুনছি ইবার উপাড়াতে,জামা কাপড় সব দিবেক, তুই দ্যাখিস মা,লাইন দিয়ে আমিই আগে লিবেক।

কথা দাও - সবুজ জানা

পৌষ পূর্ণিমার রাতে এখনও ছবি আঁকে যুবতী চাঁদ আদুরে চাঁদ....ময়ূরপঙ্খী চাঁদ.....শিল্পী চাঁদ...... পাকোলো ধানের শরীর বেয়ে শিশির ফোঁটা বিন্দু বিন্দু তুলির টানে কনে, পবিত্র দেবালি অবয়ব লাস্যময়ী বাতাসের কোলে চড়ে দোল খাওয়া নান্দনিক স্নেহভাজন রুপোর রূপলেখায় কোমরবন্ধ চিক চিক নৈসর্গিক.......! হে ঈশ্বর, কথা দাও, আর একটা জন্ম দেবে উপহার কারণ আমার অলিখিত কবিতার সাথে দেখা করতে চাই দেখা করতে চাই সেদিন তোমার আঁকা বা না আঁকা নিপুণ ছবিদের সাথে একান্তে মাঠের আর্ট গ্যালারিতে এমনি কোনো পৌষ পূর্ণিমায়।

উমার আবাহনের অপেক্ষায় - পারমিতা রাহা হালদার

আগমনী আজি দ্বারে সুরে জাগায় সুর শুভ্র কাশে লাগলো হাওয়া শরৎ ঘ্রাণ ভরপুর। আশ্বিনের আকাশ হয়েছে দেখো আলোড়িত, শিউলি শাখে  কুঁড়িরা সব  দারুন উচ্ছ্বসিত। মহালয়ার আবাহনে,পুজোর গন্ধ মাখে ভোর, আগমনী বার্তায় নতুন স্বাদ সজ্জিত আজি দোর। কাশের দোলায় মাতল ভুবন নীল সবুজের মাঝে, মনের অন্তরালে ঢেউ শরৎ পুজোর সাজে। কৈলাস থেকে আসছে উমা, সন্তান নিয়ে পাশে, উৎসবের মেজাজ জমবে তবেই এসো অবকাশে। ভালবাসার ছোঁয়া,আশ্বিনের সুরে আগমনী ভাসে, বাদ্যি বাজে ঢাকির বোলে কি অদ্ভুত অনায়াসে।

আমার দূর্গা - সত্যরঞ্জন বণিক

আমার দূর্গা ----সত্য রঞ্জন বণিক ------------------------------------------------ তোমার দূর্গা ক্ষণিকের অতিথি মাটির প্রতিমা। কোটি টাকার মন্ডপে করে বাস। আমার দূর্গা হাড়ভাঙা শ্রমে, থাকে আধপেটা উপবাস। # তোমার দূর্গা মাটির শরীরে পরিহিতা দামী বেনারসী সজ্জা। আমার দূর্গা শতছিন্ন শাড়ীর ভাঁজে কোনমতে ঢাকে লজ্জা। # তোমার দূর্গা উৎসবের রঙে নিয়নের আলোয় ঝলমলো। আমার দূর্গার কুড়ে ঘরে সন্ধ্যা সাঁঝে জ্বলেনা দীপের আলো। # তোমার দূর্গা ত্রিনয়নী দশভূজা দেবী। দূর্গতিনাশিণী মা বলেই জানি। তবু অসুরের কামানার আগুনে আমার দূর্গার সম্ভ্রমের ছিনিমিনি। # সত্যি যদি হও গো তুমি স্বর্গলোকের মা উমা। মর্ত্যলোকের অসুর নিধন কর, করো না তাদের ক্ষমা।

তোমার অপেক্ষায় - তুহিনা সুলতানা

শরৎ -তুমি এসেছো?  এসো- বহুদিন হলো আছি বসে তোমার অপেক্ষায়। দাস পাড়ার পদি পিসি,ঘোষ পাড়ার বিন্দু মাসি পরান কাকা ওরা সকলেই বলে তোমার কথা। তুমি আসতেই তো পড়ে যায় সাজ সাজ রব- তুমিই তো এনেছিলে ওদের জন্য নতুন কাপড়। সকালের ভেজা ঘাসে পা দিয়ে শিউলি ঝড়া পথে জল কাদা কে পেছনে ফেলে তুমি এসেছিলে। তাও নাই নাই করে দশ মাস হবে বইকি! মনে পড়ে? গতবার যখন তুমি এসেছিলে -তোমার হাত ধরে নদীর ধারে গিয়ে বসেছি কত দিন তাকিয়ে থেকেছি খোলা আকাশের দিকে যেখানে রাশি রাশি পেঁজা মেঘ দিয়ে আঁকা ছিলো কতো মনের মতো ছবি। হাওয়ায় দোলা কাশফুল গুলি করছিলো খেলা মাথার ওপর বলাকার ঝাঁক যাচ্ছিলো হেসে। বিকেলের শিরি শিরি বয়ে যাওয়া নদীতে মাঝি ফিরছিলো আপন মনে গান গেয়ে। লজ্জাবতী ছিলো বসে, গায়ে হাত দিয়ে ডাকতেই লজ্জায় মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করলো সে, তোমার পায়ে পা মিলিয়ে গেলাম মোহোরকুজ্ঞ যেখানে অপেক্ষায় ছিলো ছাতিম,শিউলি, শেফালী আমি হাঁটু গেড়ে বসে নিয়েছিলাম তাদের বুকের গন্ধ। তুমি টেনে নিয়ে গেলে ধান ক্ষেতের পাশে যেখানে তালপাতার ছাতার নিচে বাবুইপাখিটি আপন মনে বুনছিলো তার বাসা ধান গাছগুলি ঢেউ তুলে একসাথে উঠেছিলো নেচে, ...