Skip to main content

অসুর বধ - রানা চ্যাটার্জী

ওগো তুমি একবার রায় কত্তার পা ধরে অনুরোধ করো, অন্তত পুজোয় যদি মেয়েটাকে পাঠায়।

গিন্নি ওদের অপমান ভুলে গেলে! শক্ত হও,ওরা পিশাচ।পুজোয় সব মেয়ে বাপের বাড়ি এলেও সে কপাল ফুলকি করেনি,ওর নিস্তার নেই।

তিন বছর আগে রায়কত্তার ছোট ছেলে অঞ্জন, বখাটে বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলার জঙ্গলে ঘাপটি মেরে ,ফুলকির পড়ে ফেরার পথে পাশবিক অত্যাচার চালায়।  অমন লক্ষী গড়ন,সুন্দরী  ফুলকির বিপদ সবাই টের পায়, দুই গ্রামবাসী অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করলে। স্পটে অঞ্জনের ছবি যুক্ত মানি ব্যাগও খুঁজে পায়। ক্ষমতার দাপটে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু ফুলকির বেঁচে যাওয়া,প্রমান ,উত্তেজনা সামাল দিতে,রায়কত্তা ছেলের সাথে ফুলকির বিয়ে দেন। কিন্তু শুরু হয় ফুলকির বন্দিজীবন,শারীরিক,
মানসিক অত্যাচার যা, ঝি চাকরদের মুখে প্রকাশ পেত। 

গতবছর পুজোয় ফুলকিকে আনতে গেলে  ঘাড় ধাক্কা জোটে।চৌধুরীদের দালানে মৃৎশিল্পী , প্রতিমাকে জীবন্ত রূপ দিচ্ছেন,ততো  সবিতার মন হু হু করছে ফুলকির জন্য।

নবমীর সন্ধিপূজা শেষ ,আরএকটা দিন। কিন্তু সবিতার প্রতীক্ষার অবসান যে কবে! অক্টোবরের শেষ, বাতাসে হিমেল হাওয়া ,পুব আকাশে আলোর দিশায় সবিতা ধরফর করে উঠে বসে!একি, ফুলকি মা তুই!ওমন করে মুখটা পুড়লো কি করে বলে লম্ফের আলো ঘুরিয়ে যত দেখছে,ভারী কান্নায় গলা শুকিয়ে আসছে । মেয়েকে দেখে অশোক ভুত দেখার মতো চমকে। পায়ে হাত দিয়ে শুভ বিজয়ার  প্রণাম করলো মেয়ে। ঝুঁকতেও খুব কষ্ট হচ্ছে ।মিষ্টি, হাসি-খুশি শান্ত স্বভাবের  ফুলকির একি অবস্থা। তুই বোস, যেতে দেব না, ডাক্তার দেখাবো -বাবার কথা থামিয়ে,না গো আলো ফোটার আগেই ফিরবো বলে ফুলকি এগোয়। দৌড়ে রান্নাঘরে থেকে দুটো নারকেল নাড়ু মেয়ের হাতে দিয়ে স্বস্তি পায় সবিতা।

সন্ধ্যায় বিজয়ার বিসর্জনে  ঢাক-ঢোল,ব্যান্ড পার্টি হরেক আয়োজন। বিসর্জনের পর্ব শুরু হতেই  একটা বাচ্চা ছেলে দৌড়ে খবর দিল," রায় বাড়ির ছোট বউ ফুলকি রায়দিঘিতে ডুবে মরেছে ,মরার আগে সে নাকি বাড়িতে অঞ্জন দাকে,হেঁসোতে কুপিয়ে খুন করে। বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় আজ হ্যাজাকের আলোয় দুর্গা মায়ের চোখ গুলো অসুর বধের দাপটে ভীষণ উজ্জ্বল ।

Comments

Popular posts from this blog

Drawing , page 1

Sunita Mukherjee , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Madhumonti Paul , from Kalpography Phtotography and Drawing Department of Mrittikaparibar Drawing - Ruhul Amin , From Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Adarsha Mondal , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Tanmay Sinha , From Kalpography , Photograpy and Drawing Dept. of Mrittikaparibar drawing - Ankita Maji, from - Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar )

বিসর্জন - আশিষ মেটে

ক্ষত বিক্ষত পাহাড় মাকড়সা জালে ঢাকা, রক্তস্রোত নদী, মৃত অরণ্যের চিত্র লেখা । শরৎ মেঘে নকশা ছবি, ভাসে ছোট্ট মেয়ের মুখ; বারুদে গন্ধে দম বন্ধ, ফেটে যাচ্ছে বুক; জ্বলন্ত শরীরের চলন্ত গুলির আওয়াজ, থমকে দাঁড়ায় কান্না তাঁর থামে না; ক্ষমা করিস মা, নিয়ে যেতে পারলাম না তোর পূজার সাজ- ছোট্ট মেয়েটি বার বার জিজ্ঞাসা, বাবা কবে আসবে মা? পুষ্পাঞ্জলি শেষ, চোখের জলে দুর্গামা; দিনের প্রতিটা মুহূর্তে আতঙ্ক; যোগ মেলে না জীবনের শেষ পৃষ্ঠার অঙ্ক । বিসর্জন বেদনার গান হৃদয়ের বাজে; ভারতমাতার দীপ  জ্বালিয়ে ঘরে ফিরলো তেরঙা সাজে।।

এসো চিন্ময়ী মা - মৌলী বণিক

অশ্রুরঙের ছবি দেখি কেন মা দুর্গা তোর চোখে? সব রঙ হারিয়ে তুই ডুবেছিস কি হতাশ শোকে? সভ্য পৃথিবী কক্ষগতি বদলে ছুটছে আদিম অন্ধকারে- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধর্ষিত গুহামানবের হিংস্র হুহুঙ্কারে। ধিকিধিকি রোষানলে জ্বলছে দেখি পাপভারে ন্যুব্জ ধরা, তবু ধম্মনেতাদের রক্তচক্ষু ভয়ে ধম্মজুজুরা আধমরা। নারীর শালীনতা ঘোমটা বোরখা কিছুই আজ রক্ষিত নয়; মহিষাসুররা রক্তবীজের বংশ- ধর্ষণ, হত্যায় লেখে পরিচয়। অনাচার ভ্রষ্টাচারের ধারা বিবরণী জমে ধূসর হয় পান্ডুলিপি অসহায় হতাশায় দলাদলি মারামারি- নাম দেই বিধিলিপি। কাদা ছোঁড়াছুড়ি, মিথ্যের চমক জাদুগরী, কথার ফুলঝুরি তাতে আর কিছু না হলেও হয় নেতার বৈভব ও রাজপুরী। ভক্তের মুখোশ পরা এসেছে যারা মৃন্ময়ী রূপে প্রণাম করে, রাতের আঁধার ঘরে সেই চিন্ময়ীরূপকে ক্রূশবিদ্ধ করে । দূর্গতিনাশিনী তোর বিলাসী দশভুজা সংহারী রূপ চাইনা মাগো, মন্দির বাইরে এই সমাজে দ্বিভুজা চিন্ময়ী রূপে মা তুমি জাগো।