দুর্গাপুজো, বাঙালির একটি আত্মপ্রকাশ বলাবাহুল্য। অপার আনন্দে মেতে ওঠে প্রতিটি বাঙালি মন- এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই, নানান আঙ্গিকে সেজে ওঠে বাঙালির মন তথা সাধের ঘরবাড়িগুলি। তবে আজ এই প্রবন্ধে আমি তাদের কথা বলতে চাই যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সারাবছর। হ্যাঁ সেইসমস্ত প্রবাদপ্রতিম শিল্পীসত্তাকে এবং সেইসব মানুষদের, যাদের গল্প দামী প্রসাধনীতে মোড়া নয় বরং যারা আজীবন শক্ত দেহের ঘাম ঝরিয়ে আজও স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে চলেছেন সুদূর ভবিষ্যতের হাতছানিতে৷
মুখর সব কলতানে বাঙালির ঘরে ঘরে সাজানো মঙ্গলঘট, নতুন আবেশে মা'এর আগমনী সুর তোলে বিশুদ্ধ কাশফুল, শরতের নিবিড় আলিঙ্গনে আপ্লুত হয় এই ভূমির সমগ্র উপত্যকা৷ আত্মীয় পরিজন মিলে মিশে একাকার হয় দুর্গাপুজোর মহামিলন উৎসবে। বাতাসে খুশির কলরব- বাজলো তোমার আলোর বেণু'।
তবে আজ একটু অন্য গল্প বলি, সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে রাত্রিবেলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত নানাবিধ বৈচিত্র্য আমাদের গোচরে আসে৷ কত ছবি চলচ্চিত্রের মতো ভেসে বেড়ায় এই ব্যস্ত চরাচরে৷ কেউ ফিরে দেখেনা, কেউ ভুল করে জিজ্ঞেসও করেনা, কারণ- আজ সময় কারো হাতে নেই৷ তবে আমরা বুঝতে ভুল করি৷ আদতে সময় কারো হাতে থাকেনা, বরং সময়ের সাথেই তাল মিলিয়ে আমাদের এই জীবিতাবাস। আমার গল্প তাদের জন্য যারা দু'মুঠো ভাতের জন্য বিশ্বের সমস্তরকম কঠিন পথের ভেতর দিয়েও মৃদু হেসে হেঁটে যায়। সেইসব নিম্ন মধ্যবিত্তদের; যারা সন্তানের একঝলক হাসির জন্য একপৃথিবী লোকের সাথে ভিড়ে যায় রাস্তায়, জনপদে, শহরতলীতে, বন্দরে, সমুদ্রের গহীনে। যেখানে আমরা অসীম প্রজ্ঞা নিয়ে বসে থাকি একজন বিখ্যাত অভিনেতার মত! আমি দেখেছি আজও আমাদের রাজ্যে এমন হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন যাদের প্রতিটি জীবনকাহিনী কোন বিখ্যাত উপন্যাসের পাশে মোটেও বেমানান লাগে না।
আমার চোখে তারা সদাহাস্যজ্বল এক একটি নক্ষত্র, আর সেই জগতে কোন হিংসে, ক্রোধ, অভিমান নেই আছে কেবল প্রশান্ত মনের পবিত্র হাসি আর অপরিসীম ভালোবাসা, আমি সর্বদা কুর্নিশ জানাই সেই সকল ব্যক্তিত্বকে। হ্যাঁ আমি জানি তাদের নাম কেউ লিখবেনা কোনদিন, তবে আমার কলম ধরা সেইসব মানুষদের কল্যাণার্থে। যারা মহান নয়, কেবলই সাধারণ। আর তাই আজ দুর্গাপুজোর শুভারম্ভে কিছুটা শুভেচ্ছা তাদের জন্য৷ যাদের অবদান আমাদের নিত্যদিনের ভালোথাকার মূলে।
বেলা গড়িয়ে এলে ক্লান্ত গোধূলির প্রতিটি ছটায় মিশে আছে এই মানুষগুলির আলো, ছায়া, গন্ধ। পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা বাঙালির প্রতিটি আলাপ রঞ্জিত হোক মা'এর পূর্ণ আশীষে। ধন্য এই ধরাধামের প্রতিটি বুক। ঝাঁ চকচকে মণ্ডপে নয়, গ্রামের ভেতর সজ্জিত ছোট্ট প্রাচীন মন্দিরেই হেসে উঠুক সেইসব মানুষেরা, প্রাঞ্জল হাসিতে।
জয় মহামায়ার জয়।
- বিবেক বীর
মুখর সব কলতানে বাঙালির ঘরে ঘরে সাজানো মঙ্গলঘট, নতুন আবেশে মা'এর আগমনী সুর তোলে বিশুদ্ধ কাশফুল, শরতের নিবিড় আলিঙ্গনে আপ্লুত হয় এই ভূমির সমগ্র উপত্যকা৷ আত্মীয় পরিজন মিলে মিশে একাকার হয় দুর্গাপুজোর মহামিলন উৎসবে। বাতাসে খুশির কলরব- বাজলো তোমার আলোর বেণু'।
তবে আজ একটু অন্য গল্প বলি, সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে শুরু করে রাত্রিবেলা ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত নানাবিধ বৈচিত্র্য আমাদের গোচরে আসে৷ কত ছবি চলচ্চিত্রের মতো ভেসে বেড়ায় এই ব্যস্ত চরাচরে৷ কেউ ফিরে দেখেনা, কেউ ভুল করে জিজ্ঞেসও করেনা, কারণ- আজ সময় কারো হাতে নেই৷ তবে আমরা বুঝতে ভুল করি৷ আদতে সময় কারো হাতে থাকেনা, বরং সময়ের সাথেই তাল মিলিয়ে আমাদের এই জীবিতাবাস। আমার গল্প তাদের জন্য যারা দু'মুঠো ভাতের জন্য বিশ্বের সমস্তরকম কঠিন পথের ভেতর দিয়েও মৃদু হেসে হেঁটে যায়। সেইসব নিম্ন মধ্যবিত্তদের; যারা সন্তানের একঝলক হাসির জন্য একপৃথিবী লোকের সাথে ভিড়ে যায় রাস্তায়, জনপদে, শহরতলীতে, বন্দরে, সমুদ্রের গহীনে। যেখানে আমরা অসীম প্রজ্ঞা নিয়ে বসে থাকি একজন বিখ্যাত অভিনেতার মত! আমি দেখেছি আজও আমাদের রাজ্যে এমন হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন যাদের প্রতিটি জীবনকাহিনী কোন বিখ্যাত উপন্যাসের পাশে মোটেও বেমানান লাগে না।
আমার চোখে তারা সদাহাস্যজ্বল এক একটি নক্ষত্র, আর সেই জগতে কোন হিংসে, ক্রোধ, অভিমান নেই আছে কেবল প্রশান্ত মনের পবিত্র হাসি আর অপরিসীম ভালোবাসা, আমি সর্বদা কুর্নিশ জানাই সেই সকল ব্যক্তিত্বকে। হ্যাঁ আমি জানি তাদের নাম কেউ লিখবেনা কোনদিন, তবে আমার কলম ধরা সেইসব মানুষদের কল্যাণার্থে। যারা মহান নয়, কেবলই সাধারণ। আর তাই আজ দুর্গাপুজোর শুভারম্ভে কিছুটা শুভেচ্ছা তাদের জন্য৷ যাদের অবদান আমাদের নিত্যদিনের ভালোথাকার মূলে।
বেলা গড়িয়ে এলে ক্লান্ত গোধূলির প্রতিটি ছটায় মিশে আছে এই মানুষগুলির আলো, ছায়া, গন্ধ। পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা বাঙালির প্রতিটি আলাপ রঞ্জিত হোক মা'এর পূর্ণ আশীষে। ধন্য এই ধরাধামের প্রতিটি বুক। ঝাঁ চকচকে মণ্ডপে নয়, গ্রামের ভেতর সজ্জিত ছোট্ট প্রাচীন মন্দিরেই হেসে উঠুক সেইসব মানুষেরা, প্রাঞ্জল হাসিতে।
জয় মহামায়ার জয়।
- বিবেক বীর
Comments
Post a Comment