Skip to main content

তোমার অপেক্ষায় - তুহিনা সুলতানা

শরৎ -তুমি এসেছো?  এসো-
বহুদিন হলো আছি বসে তোমার অপেক্ষায়।
দাস পাড়ার পদি পিসি,ঘোষ পাড়ার বিন্দু মাসি
পরান কাকা ওরা সকলেই বলে তোমার কথা।
তুমি আসতেই তো পড়ে যায় সাজ সাজ রব-
তুমিই তো এনেছিলে ওদের জন্য নতুন কাপড়।
সকালের ভেজা ঘাসে পা দিয়ে শিউলি ঝড়া পথে
জল কাদা কে পেছনে ফেলে তুমি এসেছিলে।
তাও নাই নাই করে দশ মাস হবে বইকি! মনে পড়ে?

গতবার যখন তুমি এসেছিলে -তোমার হাত ধরে
নদীর ধারে গিয়ে বসেছি কত দিন
তাকিয়ে থেকেছি খোলা আকাশের দিকে
যেখানে রাশি রাশি পেঁজা মেঘ দিয়ে
আঁকা ছিলো কতো মনের মতো ছবি।
হাওয়ায় দোলা কাশফুল গুলি করছিলো খেলা
মাথার ওপর বলাকার ঝাঁক যাচ্ছিলো হেসে।
বিকেলের শিরি শিরি বয়ে যাওয়া নদীতে
মাঝি ফিরছিলো আপন মনে গান গেয়ে।

লজ্জাবতী ছিলো বসে, গায়ে হাত দিয়ে ডাকতেই
লজ্জায় মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করলো সে,
তোমার পায়ে পা মিলিয়ে গেলাম মোহোরকুজ্ঞ
যেখানে অপেক্ষায় ছিলো ছাতিম,শিউলি, শেফালী
আমি হাঁটু গেড়ে বসে নিয়েছিলাম তাদের বুকের গন্ধ।
তুমি টেনে নিয়ে গেলে ধান ক্ষেতের পাশে
যেখানে তালপাতার ছাতার নিচে বাবুইপাখিটি
আপন মনে বুনছিলো তার বাসা
ধান গাছগুলি ঢেউ তুলে একসাথে উঠেছিলো নেচে,
আমি বিস্মিত চোখে চেয়েছিলাম শুধু।

কি গো মনে পড়ে সে সব কথা?
দ্যাখো তুমি আশা শুনেই উমা ও আসছে বাপের বাড়ি
চার দিক থেকে ভেসে আসছে নতুন নতুন গন্ধ
পেট পুরে খাবার আর নতুন জামার আশায়
দিন গুনছিল জেলে পাড়ার ছেলেরা।
তালের পিঠে আর নাড়ুর গন্ধে ম ম করছে চারদিক
গোধূলি আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে রঙধনুর রঙ,
ঢাকি রা ও ঢিং কুরা কুর তাল দিতেই ব্যাস্ত,
চলো শরৎ তোমার হাত ধরে আবার উঠি মেতে। 

Comments

Popular posts from this blog

Drawing , page 1

Sunita Mukherjee , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Madhumonti Paul , from Kalpography Phtotography and Drawing Department of Mrittikaparibar Drawing - Ruhul Amin , From Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Adarsha Mondal , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Tanmay Sinha , From Kalpography , Photograpy and Drawing Dept. of Mrittikaparibar drawing - Ankita Maji, from - Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar )

বিসর্জন - আশিষ মেটে

ক্ষত বিক্ষত পাহাড় মাকড়সা জালে ঢাকা, রক্তস্রোত নদী, মৃত অরণ্যের চিত্র লেখা । শরৎ মেঘে নকশা ছবি, ভাসে ছোট্ট মেয়ের মুখ; বারুদে গন্ধে দম বন্ধ, ফেটে যাচ্ছে বুক; জ্বলন্ত শরীরের চলন্ত গুলির আওয়াজ, থমকে দাঁড়ায় কান্না তাঁর থামে না; ক্ষমা করিস মা, নিয়ে যেতে পারলাম না তোর পূজার সাজ- ছোট্ট মেয়েটি বার বার জিজ্ঞাসা, বাবা কবে আসবে মা? পুষ্পাঞ্জলি শেষ, চোখের জলে দুর্গামা; দিনের প্রতিটা মুহূর্তে আতঙ্ক; যোগ মেলে না জীবনের শেষ পৃষ্ঠার অঙ্ক । বিসর্জন বেদনার গান হৃদয়ের বাজে; ভারতমাতার দীপ  জ্বালিয়ে ঘরে ফিরলো তেরঙা সাজে।।

এসো চিন্ময়ী মা - মৌলী বণিক

অশ্রুরঙের ছবি দেখি কেন মা দুর্গা তোর চোখে? সব রঙ হারিয়ে তুই ডুবেছিস কি হতাশ শোকে? সভ্য পৃথিবী কক্ষগতি বদলে ছুটছে আদিম অন্ধকারে- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধর্ষিত গুহামানবের হিংস্র হুহুঙ্কারে। ধিকিধিকি রোষানলে জ্বলছে দেখি পাপভারে ন্যুব্জ ধরা, তবু ধম্মনেতাদের রক্তচক্ষু ভয়ে ধম্মজুজুরা আধমরা। নারীর শালীনতা ঘোমটা বোরখা কিছুই আজ রক্ষিত নয়; মহিষাসুররা রক্তবীজের বংশ- ধর্ষণ, হত্যায় লেখে পরিচয়। অনাচার ভ্রষ্টাচারের ধারা বিবরণী জমে ধূসর হয় পান্ডুলিপি অসহায় হতাশায় দলাদলি মারামারি- নাম দেই বিধিলিপি। কাদা ছোঁড়াছুড়ি, মিথ্যের চমক জাদুগরী, কথার ফুলঝুরি তাতে আর কিছু না হলেও হয় নেতার বৈভব ও রাজপুরী। ভক্তের মুখোশ পরা এসেছে যারা মৃন্ময়ী রূপে প্রণাম করে, রাতের আঁধার ঘরে সেই চিন্ময়ীরূপকে ক্রূশবিদ্ধ করে । দূর্গতিনাশিনী তোর বিলাসী দশভুজা সংহারী রূপ চাইনা মাগো, মন্দির বাইরে এই সমাজে দ্বিভুজা চিন্ময়ী রূপে মা তুমি জাগো।