Skip to main content

বদলে যাওয়া মানসিকতা - কলমে নন্দিতা দাস

আনন্দ নগর পাড়ায় এবার দুর্গা পুজো 50 বছরে পা দিলো । সলিল দাসগুপ্ত বাবু এই পূজোর মাননীয় সভাপতি । তার সাথে এইবার প্রথম পুজো সলিল বাবুর একমাত্র ছেলের বউ এর । সলিল বাবুর আনন্দ এবার দ্বিগুন ।
হ্যাঁ সলিল বাবুর একমাত্র ছেলে সঞ্জয় । বিয়ে হয়েছে এই তিন মাস হলো । ছেলে , বৌমা , স্ত্রী কে নিয়ে এইবার ভালোই পুজো কাটাবার জল্পনা কল্পনা করছে ।

রীতি মতো পুজো শুরু হলো । ষষ্টি, সপ্তমী পেরিয়ে এলো অষ্টমী র সকাল । সলিল বাবু সকাল সকাল সব কাজ সেরে   পাড়ার পেন্ডেল এ চলে গেছেন সব কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কিনা তা দেখতে । যাওয়ার আগে তার স্ত্রী কে বলে গেলেন খোকা আর বৌমা কে নিয়ে যেন সময় মতো পৌছে যায় ।

সুচিত্রা (সলিল বাবু র স্ত্রী) তৈরি হয়ে তার বৌমা কে ডেকে বললেন ...
"বৌমা ... তুমি তৈরি হয়েছো?
"পারমিতা " ( সলিল বাবুর বৌমা ) বেরিয়ে বললো - মা আমি যেতে পারবো না ।
শাশুড়ি --(অবাক হয়ে বলল) কি হলো শরীর খারাপ নাকি ডক্টর ডাকবো ?
বৌমা -- না মা আসলে আমার পিরিয়ড হয়েছে তাই যেতে পারবো না ।
শাশুড়ি ( হেঁসে বললো )-- পাগলী মেয়ে কথা শোনো । ওরে এখন দিন পাল্টেছে ,যুগ পাল্টেছে এখনও ওসব ভুল ধারণা মাথায় নিয়ে বসে থাকিস না । চল তৈরি হয়ে নে ।অঞ্জলি শুরু হয়ে যাবে তো
বৌমা --- কিন্তু মা ঠাকুর যদি পাপ দে ?
শাশুড়ি -- হাহাহাহাহা ওরে । মা তো নিজেই নারী । আর পিরিয়ড হলো মাতৃসত্তার মূল অংশ ।যা শুধু মেয়েদের কেই এই সংসার এ দিয়েছেন আমাদের । মা দুর্গা নিজেই মা । মা তোকে কি করে পাপ দেবে । বুঝলি এবার । চল তৈরি হয়ে নে ।
বৌমা -- হা মা বুঝলাম । তোমার মত শাশুড়ি যেন সব মেয়ে পায় ।
(এমন সময় পাড়ার পেন্ডেল থেকে মাইকে শব্দ আসে অঞ্জলি শুরু হবে সবাই আসুন  ) ।
শাশুড়ি -- যা তৈরি হয়ে আয় ।
( সলিল বাবু তার প্ল্যানিং অনুযায়ী একসাথেই সহপরিবারের সাথে মায়ের অঞ্জলী দিলো )

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

Drawing , page 1

Sunita Mukherjee , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Madhumonti Paul , from Kalpography Phtotography and Drawing Department of Mrittikaparibar Drawing - Ruhul Amin , From Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Adarsha Mondal , from Kalpography Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar Drawing - Tanmay Sinha , From Kalpography , Photograpy and Drawing Dept. of Mrittikaparibar drawing - Ankita Maji, from - Kalpography ( Photography and Drawing Dept. of Mrittikaparibar )

বিসর্জন - আশিষ মেটে

ক্ষত বিক্ষত পাহাড় মাকড়সা জালে ঢাকা, রক্তস্রোত নদী, মৃত অরণ্যের চিত্র লেখা । শরৎ মেঘে নকশা ছবি, ভাসে ছোট্ট মেয়ের মুখ; বারুদে গন্ধে দম বন্ধ, ফেটে যাচ্ছে বুক; জ্বলন্ত শরীরের চলন্ত গুলির আওয়াজ, থমকে দাঁড়ায় কান্না তাঁর থামে না; ক্ষমা করিস মা, নিয়ে যেতে পারলাম না তোর পূজার সাজ- ছোট্ট মেয়েটি বার বার জিজ্ঞাসা, বাবা কবে আসবে মা? পুষ্পাঞ্জলি শেষ, চোখের জলে দুর্গামা; দিনের প্রতিটা মুহূর্তে আতঙ্ক; যোগ মেলে না জীবনের শেষ পৃষ্ঠার অঙ্ক । বিসর্জন বেদনার গান হৃদয়ের বাজে; ভারতমাতার দীপ  জ্বালিয়ে ঘরে ফিরলো তেরঙা সাজে।।

এসো চিন্ময়ী মা - মৌলী বণিক

অশ্রুরঙের ছবি দেখি কেন মা দুর্গা তোর চোখে? সব রঙ হারিয়ে তুই ডুবেছিস কি হতাশ শোকে? সভ্য পৃথিবী কক্ষগতি বদলে ছুটছে আদিম অন্ধকারে- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধর্ষিত গুহামানবের হিংস্র হুহুঙ্কারে। ধিকিধিকি রোষানলে জ্বলছে দেখি পাপভারে ন্যুব্জ ধরা, তবু ধম্মনেতাদের রক্তচক্ষু ভয়ে ধম্মজুজুরা আধমরা। নারীর শালীনতা ঘোমটা বোরখা কিছুই আজ রক্ষিত নয়; মহিষাসুররা রক্তবীজের বংশ- ধর্ষণ, হত্যায় লেখে পরিচয়। অনাচার ভ্রষ্টাচারের ধারা বিবরণী জমে ধূসর হয় পান্ডুলিপি অসহায় হতাশায় দলাদলি মারামারি- নাম দেই বিধিলিপি। কাদা ছোঁড়াছুড়ি, মিথ্যের চমক জাদুগরী, কথার ফুলঝুরি তাতে আর কিছু না হলেও হয় নেতার বৈভব ও রাজপুরী। ভক্তের মুখোশ পরা এসেছে যারা মৃন্ময়ী রূপে প্রণাম করে, রাতের আঁধার ঘরে সেই চিন্ময়ীরূপকে ক্রূশবিদ্ধ করে । দূর্গতিনাশিনী তোর বিলাসী দশভুজা সংহারী রূপ চাইনা মাগো, মন্দির বাইরে এই সমাজে দ্বিভুজা চিন্ময়ী রূপে মা তুমি জাগো।