ওগো তুমি একবার রায় কত্তার পা ধরে অনুরোধ করো, অন্তত পুজোয় যদি মেয়েটাকে পাঠায়। গিন্নি ওদের অপমান ভুলে গেলে! শক্ত হও,ওরা পিশাচ।পুজোয় সব মেয়ে বাপের বাড়ি এলেও সে কপাল ফুলকি করেনি,ওর নিস্তার নেই। তিন বছর আগে রায়কত্তার ছোট ছেলে অঞ্জন, বখাটে বন্ধুকে নিয়ে মঙ্গলার জঙ্গলে ঘাপটি মেরে ,ফুলকির পড়ে ফেরার পথে পাশবিক অত্যাচার চালায়। অমন লক্ষী গড়ন,সুন্দরী ফুলকির বিপদ সবাই টের পায়, দুই গ্রামবাসী অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করলে। স্পটে অঞ্জনের ছবি যুক্ত মানি ব্যাগও খুঁজে পায়। ক্ষমতার দাপটে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু ফুলকির বেঁচে যাওয়া,প্রমান ,উত্তেজনা সামাল দিতে,রায়কত্তা ছেলের সাথে ফুলকির বিয়ে দেন। কিন্তু শুরু হয় ফুলকির বন্দিজীবন,শারীরিক, মানসিক অত্যাচার যা, ঝি চাকরদের মুখে প্রকাশ পেত। গতবছর পুজোয় ফুলকিকে আনতে গেলে ঘাড় ধাক্কা জোটে।চৌধুরীদের দালানে মৃৎশিল্পী , প্রতিমাকে জীবন্ত রূপ দিচ্ছেন,ততো সবিতার মন হু হু করছে ফুলকির জন্য। নবমীর সন্ধিপূজা শেষ ,আরএকটা দিন। কিন্তু সবিতার প্রতীক্ষার অবসান যে কবে! অক্টোবরের শেষ, বাতাসে হিমেল হাওয়া ,পুব আকাশে আলো...